ভ্রমণ কাহিনী ( ট্রাকে এক রাত )

ট্রাকে এক রাত।

আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ

আমি আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ। আমি সব ধরনের কাজের অনুভূতি জানার চেষ্টা করি। এমনি একদিন আমার চাচাতো বড় ভাই বললো চল আজকে আমরা ট্রাকে ভুট্টা নেওয়ার জন্য যায় । আমি বললাম আব্বু বোকবে। ভাইয়া বললো তোর আব্বু আসার আগেই চলে আসবো। তখন আমার বয়স ছিলো ১৪-১৫ বছর। আমি কোনো কিছু না ভেবেই রাজি হয়ে গেলাম। আমরা সন্ধ্যায় রওনা হলাম আমাদের গন্তব্যের উদ্দেশ্যে। আমাদের গন্তব্যে পৌঁছে আমরা আমাদের গাড়িটি এক পাশে সরিয়ে রেখে খাবার খাওয়া উদ্দেশ্যে রওনা হলাম বাজারে দিকে। হালকা কিছু খাবার পর আসার সময় লক্ষ্য করলাম একজন লোক রাস্তার পাশে বসে পেয়ারা বিক্রয় করছে। আমি ভাবলাম এক কেজি পেয়ারা নিয়ে নি রাতে খাওয়ার জন্য। পরে ভাবলাম কিছুক্ষণ পরেই তো চলে যাবো তো পেয়ারা নিয়ে কী হবে? তখন পেয়ারা আর নিলাম না। আমরা গাড়ির কাছে গিয়ে দাঁড়ালাম। অবশেষে রাত ১০টা কিংবা ১১টার দিকে আমাদের গাড়িতে ভুট্টা বোঝায় কাজ শুরু করলো। দুই লাইন ভুট্টা সাজানো পর আমার বড় ভাই ভুল সংকেত অনুযায়ী গাড়ি চালানো শুরু করে। এর ফলে ট্রাকে সাজানো ভুট্টার বস্তা গুলো পরে যায়। পরে সেখান কার শ্রমিকরা আমাদের উপর ক্ষুব্ধ হয়। এবং আমাদের গাড়িতে পুনরায় ভুট্টা সাজানোর জন্য নারাজ হয়। আমরা তাদের কে অনেকক্ষণ যাবৎ অনুরোধ করলাম আমাদের গাড়িটি পুনরায় ভুট্টা সাজানোর জন্য। কিন্তু তারা আর গাড়িতে ভুট্টা সাজানোর জন্য রাজি হলোনা। অবশেষে রাত ১টার দিকে আমার বাড়ি থেকে ফোন আসে। আব্বু ফোন দিয়েছিলো। আমি কোথায় আছি জিজ্ঞাসা করার জন্য। এবং কখন বাড়ী ফিরবো আমি বললাম এইতো কিছুক্ষণ পরই বাড়িতে ফিরবো । আব্বু কিছু বলার আগেই আমি বললাম আর কোন দিন আসবো না। আব্বু বললো আচ্ছা। আমার তখন খুব খুদা লাগে তার জন্য আমি আব্বুকে বললাম আর কোন দিন আসবো না। পরে ঐ শ্রমিকদের মহাজন তাদের কাছে ফোন দেয় এবং জানতে চায় আমাদের গাড়িতে ভুট্টা বোঝায় কাজ শেষ হয়েছে নাকি। শ্রমিক সব ঘটনা খুলে বলে। সব কথা বলার পর তাদের মহাজন তাদের ভুট্টা বোঝায় কাজ শুরু করতে বলে। অবশেষে আমাদের গাড়িতে পুনরায় ভুট্টা সাজানোর কাজ শুরু করে। আমি মোবাইলে আলো নিয়ে ধরি এবং বস্তার উপর হাঁটাহাঁটি করি। আমরা ঐ স্থান থেকে ২টার সময় আরেকটি নতুন জায়গায় উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। সেখানে পৌঁছালাম ২:৩০ মিনিটের দিকে। সেখানে গিয়ে আমার খুদা আরো বেশি লেগে গেল। ঐ জায়গার এক শ্রমিক তার খাবার আমাদের দিয়ে দিলো। তার পর ঐ শ্রমিকের খাবার আমরা তৃপ্তি করে খেয়ে আমি ঘুমিয়ে পরলাম এবং আমার বড় ভাই শ্রমিকদের সহযোগিতা করছিলো। অতঃপর আমি সকাল ৬টার দিকে ঘুম থেকে উঠলাম। অবশেষে আমরা বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। বাড়ির দিকে রওনা হওয়ার পথে বিজিবি (BGB) আমাদের গাড়িটি চেক করে কারণ আমরা বর্ডারের পাশে ভুট্টা বোঝায় করছিলাম। অতঃপর ৬:৪৫ মিনিটের দিকে আমরা বাড়িতে পৌঁছালাম এবং আমার মেজো কাকা গাড়িটি নিয়ে তার গন্তব্যে চলে যায়। এই রাতটি আমার কাছে স্বরণীয় হয়ে থাকবে। হয়তো ট্রাক চালকদের কাছে এটা কোনো ব্যাপার না কারণ তারা প্রতীনীয়ত এই কাজটি করে থাকে। কিন্তু এটি আমার কাছে একটি স্বরণীয় রাত ।@abdullahalmahmudwriter

Leave a comment

Design a site like this with WordPress.com
Get started